
নির্বাসিত
অন্ধকার রাত। ক্যানসাস সিটির হাইওয়ে ধরে ছুটছে পুলিশের একটা গাড়ি। সামনের সিটে বসে রয়েছে দুজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার। পেছনের সিটের ডান পাশে চুপচাপ বসে আছে নাজ। আতঙ্কিত, ভীত, দ্বিধান্বিত এবং সন্দিহান। সে এখনো জানে না কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাকে। দুই চোখভরে জলের ধারা অঝোরে ঝরছে—নীরবে। গাড়িটা হঠাৎ করেই হাইওয়ে থেকে বের হয়ে সার্ভিস রোডে পড়ল। নাজের শরীরটা কেঁপে উঠল একটু। সে...

নির্বাসিত
প্রথম প্রকাশিত
একুশে বইমেলা ২০২৫
পৃষ্ঠার দৈর্ঘ্য
112
ISBN
9789849958109
বইয়ের তথ্য
অন্ধকার রাত। ক্যানসাস সিটির হাইওয়ে ধরে ছুটছে পুলিশের একটা গাড়ি। সামনের সিটে বসে রয়েছে দুজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার।
পেছনের সিটের ডান পাশে চুপচাপ বসে আছে নাজ। আতঙ্কিত, ভীত, দ্বিধান্বিত এবং সন্দিহান। সে এখনো জানে না কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাকে। দুই চোখভরে জলের ধারা অঝোরে ঝরছে—নীরবে।
গাড়িটা হঠাৎ করেই হাইওয়ে থেকে বের হয়ে সার্ভিস রোডে পড়ল। নাজের শরীরটা কেঁপে উঠল একটু। সে ঘাড় ঘুরিয়ে রাস্তার দিকে তাকাল। অন্ধকারে কিছুই চিনতে পারল না। নাজের দৃষ্টিতে ভয় মিশ্রিত চিন্তার ছাপ। কোথায় যাচ্ছে ? পুলিশ দুটোর অন্য কোনো মতলব নেই তো ? নাজের শিরদাঁড়া বেয়ে ভয়ের শীতল স্রোত নেমে এল।
ভয়টা ক্রমেই বাড়ছে নাজের। গাড়িটা আরেকটা বাঁক নিয়ে আরও অন্ধকার একটা রাস্তায় পড়তেই সে দ্রুত দোয়া ইউনুস পড়তে লাগল। এশা আর তূর্যর কথা মনে পড়ায় বুকটা চৌচির হয়ে যাচ্ছে। সাজিদকেই-বা কোথায় নিয়ে গেছে ? একই দিনে এতকিছু ঘটে গেল। কিছুক্ষণ পর পর বাচ্চা দুটোর জন্য কলিজা হু হু করে উঠছে। নাজের ইচ্ছে হচ্ছে গলা ছেড়ে চিৎকার করে কাঁদতে। কিন্তু সে কাঁদতে পারছে না। গলার মধ্যে দলা পাকিয়ে আটকে আছে সব কান্না। নিজেকে এতটা অসহায় আর কখনোই লাগে নি তার। সে অনিশ্চিত অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকল।