Home দরজার ওপাশে হৃদি

দরজার ওপাশে হৃদি

By

একাত্তরের পাঁচ জুলাই নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সোনাকুড়া গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে জন্মেছি আমি। সৌভাগ্য আমার, কলেজে পড়া পর্যন্ত গ্রামেই ছিলাম। সেই জীবনটাকে স্বরূপ সন্ধানের মতো করে লেখার মধ্য দিয়ে এখনো আমি খুঁজি। সন্ধ্যা পালানো শিয়ালের ডাক কিংবা দূর থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুর এখনো আমাকে আবেশে উতলা করে। গভীর রাতের প্রহরে প্রহরে ডাহুকের হুঁশিয়ারি ডাক কিংবা ভোরের বাতাসে কচি নিমপাতার...

Sale price Tk 550.00
40
People are viewing this right now
দরজার ওপাশে হৃদি

দরজার ওপাশে হৃদি

Tk 550.00

প্রথম প্রকাশিত

একুশে বইমেলা ২০২৫

পৃষ্ঠার দৈর্ঘ্য

160

ISBN

9789849958116

বইয়ের তথ্য

একাত্তরের পাঁচ জুলাই নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সোনাকুড়া গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে জন্মেছি আমি। সৌভাগ্য আমার, কলেজে পড়া পর্যন্ত গ্রামেই ছিলাম। সেই জীবনটাকে স্বরূপ সন্ধানের মতো করে লেখার মধ্য দিয়ে এখনো আমি খুঁজি। সন্ধ্যা পালানো শিয়ালের ডাক কিংবা দূর থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুর এখনো আমাকে আবেশে উতলা করে। গভীর রাতের প্রহরে প্রহরে ডাহুকের হুঁশিয়ারি ডাক কিংবা ভোরের বাতাসে কচি নিমপাতার কাঁপন আমাকে এখনো নিয়ে যায় সে-ই শৈশবে। 
আমি হাতড়াই!
আমি কাতরাই!!
পেশা শুরু করেছিলাম সাংবাদিকতা দিয়ে। সাত বছর বিভিন্ন পত্রিকায় গুণী ও জ্ঞানীজনদের সঙ্গে কাজ করেছি। পরবর্তী সময়ে চ্যানেল আইতে যুক্ত হই। এখনো অনুষ্ঠান নির্মাণ করছি চ্যানেল আইতে।
লেখালেখির শুরুটা শৈশবে। আমি তখন সেভেনে পড়ি। আমার লেখা কবিতা বাংলাদেশ বেতারে পাঠ করা হলো। সেই থেকেই নিয়মিত লেখালেখি আমার। পরবর্তী সময়ে আর কবিতা নয়—গান, টিভি নাটক এবং গল্প-উপন্যাস লিখছি। অনেক লেখার কারণেই হয়তো ইতিমধ্যে বেশকিছু পুরস্কারও পেয়েছি। যা-ই লিখি, ভালো লাগে। পড়ে আনন্দ পাই। বন্ধুরা উৎসাহ দেয়। কিন্তু বই হয়ে বাজারে এলে প্রতিবারই নিজের লেখা পড়ে মনে হয়, ধুর ছাই, কী লিখলাম ? এসব আর লিখব না। কিন্তু আমি লিখেই চলেছি... 


বেশ কিছুদিন ধরে সজীবের মন-মর্জি ভালো নেই বলে বেড়াতে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলে নি হৃদি। সজীবের আগের আচরণগুলো মনে করবার চেষ্টা করতেই বেশ কিছু আনন্দময় মধুর স্মৃতি মনে পড়ল। তখনো অর্থির জন্ম হয় নি। এক চাঁদভরা জোছনা রাতে ব্যালকনিতে বসে কথা হচ্ছিল। রোমান্টিকভাবে হৃদিকে জড়িয়ে ধরে বসে গল্প করেছিল সজীব। হৃদিই বলেছিল, এই চাঁদনি রাত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বসে কাটাতে পারলে খুব মজা হতো। 
লাফ দিয়ে উঠেই দাঁড়িয়ে সজীব বলেছিল, শাড়ি পরো। ব্যাগ গুছিয়ে তৈরি হয়ে নাও। কক্সবাজার যাব। সেবার সত্যি সত্যি সারা রাত গাড়ি ড্রাইভ করে কক্সবাজার চলে গিয়েছিল তারা। আরও কিছু মধুর স্মৃতি মনে পড়ল হৃদির। আবেগঘন হলো মন। 
তারপর ড্রেসিংটেবিলের আয়নায় নিজেকে দেখে প্রতিবিম্বের সাথে মনে মনে কথা বলে হৃদি, ‘তুমি একটা নষ্টা মেয়ে। তোমার এই রূপ সৌন্দর্য, এই বুক, এই ঠোঁট, গ্রিবা, নিতম্ব— সর্বোপরি শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যেই রয়েছে তোমার স্বামীর পূর্ণ অধিকার। অথচ তাকে তুমি বঞ্চিত করেছো। এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত তোমাকে করতেই হবে। যন্ত্রণাকাতর হৃদির হাত-পা অবশ হয়ে আসে। মাথা ঘুরতে থাকে। চোখ বন্ধ করে হৃদি। আবেশে সজীবকে জড়িয়ে ধরে। স্পষ্ট উচ্চারণে বলে, তোমার কোনো দোষ নেই সজীব। তুমি সভ্য আচরণ করেছো। তোমার মতো ভালো মানুষ হয় না। আমিই পাপী, ক্ষমা দাও সজীব, ক্ষমা দাও। 
কিন্তু ক্ষমা কি পেল হৃদি?

Customer Reviews

Be the first to write a review
0%
(0)
0%
(0)
0%
(0)
0%
(0)
0%
(0)