বিমূর্ত ছায়া (Bimurto Chaya)
কার্তিকের এইসব পড়ন্ত বেলায় শহুরে বিকেলের গায়ে রোদ লেগে থাকে। সে রোদ হাসি হাসি মুখ করে শীতের বাতাসে লাজুক চোখে বিদায় নেয়, সন্ধ্যা নেমে আসে প্রস্তুতি ছাড়াই। অচেনা কোনো রাস্তায় উদ্দেশ্যহীন হেঁটে বেড়ানোর সময়ে ছাতিমের গন্ধে মন ছুটে যায় কোনো অজানা অতীতে, যে অতীত আমি অস্বীকার করতে পারি না, বিশ্বাসও করতে চাই না। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে কেটে যায় অন্তবিমূর্ত ছায়া মানুষের...
বিমূর্ত ছায়া (Bimurto Chaya)
বইয়ের তথ্য
কার্তিকের এইসব পড়ন্ত বেলায় শহুরে বিকেলের গায়ে রোদ লেগে থাকে। সে রোদ হাসি হাসি মুখ করে শীতের বাতাসে লাজুক চোখে বিদায় নেয়, সন্ধ্যা নেমে আসে প্রস্তুতি ছাড়াই। অচেনা কোনো রাস্তায় উদ্দেশ্যহীন হেঁটে বেড়ানোর সময়ে ছাতিমের গন্ধে মন ছুটে যায় কোনো অজানা অতীতে, যে অতীত আমি অস্বীকার করতে পারি না, বিশ্বাসও করতে চাই না। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে কেটে যায় অন্তবিমূর্ত ছায়া মানুষের অন্তর্গত অদৃশ্য অস্তিত্বের কাব্য। এই গ্রন্থে ‘ছায়া’ কোনো অনুপস্থিতি নয়; বরং আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষেরই নীরব প্রতিবিম্ব। কবিতাগুলো জীবনকে সরল ঘটনার ধারায় নয়, বরং স্মৃতি, প্রশ্ন, অপরাধবোধ, প্রেম ও ক্লান্তির ছায়াপথে ভেঙে ভেঙে প্রকাশ করে। এখানে সময় একটি ক্ষয়মান অনুভব, সম্পর্ক একটি অস্পষ্ট রেখা, আর মানুষ নিজেই নিজের কাছে ধাঁধা।
কবি শব্দকে ব্যবহার করেন ইশারায়—বলবার চেয়ে আড়াল করতে বেশি আগ্রহী। ফলে পাঠককে সরাসরি অর্থ নয়, অর্থের সম্ভাবনা দেওয়া হয়। শহর, পরিবার, দাম্পত্য, দায়িত্ব, ধর্ম, ইতিহাস—সবকিছুই এখানে স্পষ্ট নামে নয়, ছায়ার মতো উপস্থিত। এই ছায়া কখনো আশ্রয়, কখনো বোঝা; কখনো স্মৃতির স্নিগ্ধতা, কখনো অনুচ্চারিত বেদন।
বিমূর্ত ছায়া মূলত আধুনিক মানুষের মানসিক মানচিত্র—যেখানে সাফল্যের আলো যত তীব্র ছায়াও তত দীর্ঘ। এই কাব্য পাঠককে নিজের ছায়ার দিকে তাকাতে বাধ্য করে। এখানেই গ্রন্থটির সার্থকতা—এটি উত্তর দেয় না, বরং মানুষের ভেতরের প্রশ্নগুলোকে নীরবে জীবিত রাখে।
হীন প্রহর!
