30%
নক্ষত্র-নূপুর দ্বিতীয় খণ্ড (Nakkhotra-Nupur)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল প্রেক্ষাপটে রচিত ‘নক্ষত্র-নূপুর (দ্বিতীয় খণ্ড)’ এক বহুমাত্রিক ডকুফিকশন, যেখানে ইতিহাসের বাঁকবদলকারী ঘটনার সঙ্গে মিশে গেছে বিপ্লবীদের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম ও আত্মত্যাগের গভীর আখ্যান। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ পুলিশের চোখ এড়িয়ে ‘ফাদার মার্টিন’ ছদ্মনামে সমুদ্রপথে আমেরিকায় পৌঁছে নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জন্ম দেন এম এন রায়ের, নাম বদলালেও ভেতরের অগ্নিশিখা নিভে যায় না। দেশ থেকে আসে একের পর এক দুঃসংবাদ—বাঘা যতীন...
নক্ষত্র-নূপুর দ্বিতীয় খণ্ড (Nakkhotra-Nupur)
বইয়ের তথ্য
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল প্রেক্ষাপটে রচিত ‘নক্ষত্র-নূপুর (দ্বিতীয় খণ্ড)’ এক বহুমাত্রিক ডকুফিকশন, যেখানে ইতিহাসের বাঁকবদলকারী ঘটনার সঙ্গে মিশে গেছে বিপ্লবীদের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম ও আত্মত্যাগের গভীর আখ্যান। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ পুলিশের চোখ এড়িয়ে ‘ফাদার মার্টিন’ ছদ্মনামে সমুদ্রপথে আমেরিকায় পৌঁছে নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জন্ম দেন এম এন রায়ের, নাম বদলালেও ভেতরের অগ্নিশিখা নিভে যায় না। দেশ থেকে আসে একের পর এক দুঃসংবাদ—বাঘা যতীন রণক্ষেত্রে নিহত, প্রেমিকা অমৃতার স্মৃতি ধূসর হয়ে আসে—এই রিক্ততার মাঝেই ধ্রুবতারার মতো আসেন বিদুষী ইভলিন ট্রেন্ট, যিনি সহযোদ্ধা থেকে হয়ে ওঠেন তাঁর একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়। নিউইয়র্কের লাইব্রেরি ও বক্তৃতার ভিড়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, মার্ক্সীয় দর্শনের প্রভাবে রায়ের মনে ঘটে গভীর আদর্শিক রূপান্তর, লালা লাজপত রাইয়ের মধ্যপন্থী জাতীয়তাবাদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। আমেরিকা জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে ‘হিন্দু-জার্মান ষড়যন্ত্র’ মামলায় ভারতীয় বিপ্লবীদের ওপর নেমে আসে প্রবল ধরপাকড়, এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ইভলিনকে সঙ্গী করে রায় পাড়ি জমান মেক্সিকয়—সেখানে রাশিয়ার বাইরে বিশ্বের প্রথম কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলেন। ঠিক তখন ইউরোপের যুদ্ধের আগুনে জুরিখের গোপন আস্তানায় লেনিন রুশ বিপ্লবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, নাদিয়া নীরব সংগঠক হিসেবে তাঁকে টিকিয়ে রাখছেন, আর ইনেসা আরমান্ড লেনিনের প্রেমিকা ও অতন্দ্র কর্মী। নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ক্ষণিক উপস্থিতি ও তাঁকে ঘিরে আন্তর্জাতিক হত্যা-ষড়যন্ত্রের অজানা অধ্যায় গল্পে বৈচিত্র্য যোগ করে। এদিকে বার্লিনের অন্ধকার যখন বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (চ্যাটো) ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপানোর নীল নকশা আঁকছেন, তাঁর নিঃসঙ্গ জীবনে ছুটে আসেন অগ্নিশিখা অ্যাগনেস স্মেডলি। মেক্সিকো থেকে মস্কোর ক্রেমলিনে লেনিনের মুখোমুখি হয়ে নরেন উপনিবেশবাদ নিয়ে তাত্ত্বিক লড়াই করেন, তাশখন্দে ভারতীয় সামরিক স্কুল গড়ে তোলেন—এই আখ্যান মনে করিয়ে দেয় যে বিপ্লব শুধু মস্কো বা পেট্রোগ্রাড নয়, তার অন্য প্রান্তে কলকাতা, লাহোর, পাঞ্জাবের শোষিত মানুষের দীর্ঘশ্বাসও রয়েছে।

