গ্যাংটকে গ্যাড়াকল দার্জিলিংয়ে কোলাহল
হুমায়ূন আহমেদের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের দল ঢাকা থেকে সড়কপথে লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী সীমান্তে যায়। ওপারে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা। স্থলসীমানা পেরিয়ে দলটির গন্তব্য সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক। যাত্রাপথে নানা বিপত্তি। পাহাড়ি পথের অনিন্দ্য সৌন্দর্যকে সাথি করে দলটি পৌঁছায় কাক্সিক্ষত গন্তব্যে। পথের ক্লান্তি ভুলে সবার মধ্যেই এক ধরনের শিহরণ। সত্যজিৎ রায়ের ‘গ্যাংটকে গণ্ডগোল’-এ পড়া কল্পনার সেই গ্যাংটকে হাজির হওয়ার উত্তেজনা। কিন্তু কে...
গ্যাংটকে গ্যাড়াকল দার্জিলিংয়ে কোলাহল
বইয়ের তথ্য
হুমায়ূন আহমেদের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের দল ঢাকা থেকে সড়কপথে লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী সীমান্তে যায়। ওপারে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা। স্থলসীমানা পেরিয়ে দলটির গন্তব্য সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক। যাত্রাপথে নানা বিপত্তি। পাহাড়ি পথের অনিন্দ্য সৌন্দর্যকে সাথি করে দলটি পৌঁছায় কাক্সিক্ষত গন্তব্যে। পথের ক্লান্তি ভুলে সবার মধ্যেই এক ধরনের শিহরণ। সত্যজিৎ রায়ের ‘গ্যাংটকে গণ্ডগোল’-এ পড়া কল্পনার সেই গ্যাংটকে হাজির হওয়ার উত্তেজনা। কিন্তু কে জানত তখন, পড়তে হবে নতুন গ্যাড়াকলে! পূর্বানুমতি ছাড়া গ্যাংটকে প্রবেশ করায় চব্বিশ ঘণ্টার কম সময়ে পুলিশ এই ভ্রমণ দলটিকে ডিপোর্টেড করে। দেখা হলো না তুষারাবৃত সাঙ্গু লেকের মোহনীয় দৃশ্য। নাথাং ভ্যালি, লাচেন, গুরুদংমার লেক, জিরো পয়েন্ট, ইয়মথাং ভ্যালিসহ কালা পাথরের চোখধাঁধানো সৌন্দর্য না দেখার কষ্ট তো আছেই। অদেখা-অনাবিষ্কৃত থেকে যায় স্বপ্নের গ্যাংটক। ভগ্নমনোরথ দলটি পুলিশ প্রহরায় গ্যাংটক ত্যাগ করে। এবার নতুন গন্তব্য আরেক শৈলশহর, অপার পাহাড়ি সৌন্দর্যের লীলাভূমি দার্জিলিং। গ্যাংটক দেখা হলো না, তাতে কী! সঙ্গে আছেন হুমায়ূন আহমেদ। যে-কোনো বিষাদ-মুহূর্তকে আনন্দে ভরিয়ে দেওয়ার জাদু জানেন তিনি। তাঁর কাছে নিজের আনন্দের চেয়ে ভ্রমণসঙ্গীদের আনন্দই মুখ্য। নানারকম রসিকতায় মাতিয়ে রাখেন তাদের। অন্যসব ভ্রমণ কিংবা আড্ডার মতো এ যাত্রায়ও সর্বক্ষণ তিনি ছিলেন ক্যামেরার ফোকাসে। তিনিই এর প্রাণ। তাই পাহাড়ি সৌন্দর্যের স্নিগ্ধতাকে ছাপিয়ে গ্যাংটকে যে গ্যাড়াকলে পড়ল দলটি কিংবা মোহনীয় দার্জিলিংয়ে যে আনন্দ-কোলাহল, সবকিছুর কেন্দ্রে আছেন হুমায়ূন আহমেদ। তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি দৃশ্যপট।
