
মুকুট রাজার দেশে (Mukut Rajar Deshe)
তাঁবুর নিচে এসে চেয়ার পেতে চার জন গোল হয়ে বসল। ড. মিজানুর রহমান শুরু করলেন। শোন তাহলেÑ এই ঝিনাইদহ একটি প্রাচীন জনপদ। প্রাচীনকালে এটা টলেমী বর্ণিত গঙ্গারিডি রাজ্যভুক্ত ছিল। ঝিনাইদহের অন্তর্গত বারোবাজার ছিল গঙ্গারিডির রাজধানী। মধ্যযুগে ঝিনাইদহের বহু স্থানের সঙ্গে রাজা, বাদশাহ, পীর-ফকিরের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের কীর্তিরাজি দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে এই ঝিনাইদহ অঞ্চল। রাজা মুকুট রায় তাঁদের মধ্যে অন্যতম।প্রাদেশিক...

মুকুট রাজার দেশে (Mukut Rajar Deshe)
প্রথম প্রকাশিত
একুশে বইমেলা ২০২৫
পৃষ্ঠার দৈর্ঘ্য
128
ISBN
978 984 502 653 6
বইয়ের তথ্য
তাঁবুর নিচে এসে চেয়ার পেতে চার জন গোল হয়ে বসল। ড. মিজানুর রহমান শুরু করলেন। শোন তাহলেÑ এই ঝিনাইদহ একটি প্রাচীন জনপদ। প্রাচীনকালে এটা টলেমী বর্ণিত গঙ্গারিডি রাজ্যভুক্ত ছিল। ঝিনাইদহের অন্তর্গত বারোবাজার ছিল গঙ্গারিডির রাজধানী। মধ্যযুগে ঝিনাইদহের বহু স্থানের সঙ্গে রাজা, বাদশাহ, পীর-ফকিরের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের কীর্তিরাজি দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে এই ঝিনাইদহ অঞ্চল। রাজা মুকুট রায় তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
প্রাদেশিক কাহিনি, প্রচলিত প্রবাদ, জনশ্রুতি ও কিংবদন্তি অনুসারে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে তিন জন মুকুট রায় ছিলেন—১. জয়দিয়া (নড়াইল)-র মুকুট রায়; ২. বাড়িয়াবাথানের মুকুট রায়; ৩. ঝিকরগাছা সংলগ্ন ব্রাক্ষ্মণ নগরের (বর্তমানে যশোর জেলার অর্ন্তগত) মুকুট রায়। এঁরা সবাই বারভূঁইয়াদের বংশধর। এঁরা রাজা উপাধি গ্রহণ করেছিলেন অথবা বঙ্গেশ^র কর্তৃক রাজা উপাধি প্রদত্ত হয়েছিলেন।
আমরা মাটি খনন করে যাঁর সম্পর্কে আবিষ্কার করার কাজে নেমেছি অর্থাৎ ঝিনাইদহ অঞ্চলের এ মুকুট রায় বা মুকুট রাজা একজন প্রবল প্রতাপশালী জমিদার ছিলেন। সম্ভবত মোঘল আমলের প্রথম ভাগে এ মুকুট রাজার অভ্যুদয় ঘটেছিল। অনেকে আবার অনুমান করেন, মুকুট রাজার অভ্যুদয়কাল মধ্যযুগীয় দিল্লির সুলতানাত আমল।
বাড়িয়াবাথানের এই মুকুট রাজার অনেক সৈন্য সামন্ত ছিল। কোড়াদারদের সঙ্গে নিয়ে তিনি রাস্তা নির্মাণ ও জলাশয়ও খনন করতেন।