Home উড়ে যায় নিশিপক্ষী
25%

উড়ে যায় নিশিপক্ষী

By নাসরীন জাহান

রাক্ষুসে আঁধার কুঁজো বুড়িকে ডাকে আয়, আয়...। রাত রাত বুড়ি হাওর, মাঠ গোরস্থান ধরে হাঁটে...হাঁটে। হাওরের ঘাটে বেদে বহরের আখড়া। সেই আখড়ায় সাপের মতো ফনকনা, জেদি চন্দ্রানীর বাস। পরপর দুই বিবাহের দুর্বিষহ স্মৃতি বুকে নিয়ে সে সাপের পায়ের ছাপ ধরে ধরে অন্ধকার গহিন জঙ্গলে খোঁজে গর্ত। বিকটাকার এই বিষাক্ত সাপটির টুটি চেপে ধরে নাচাতে নাচাতে বহরের মধ্যে সে ভয় ঢুকিয়ে...

Tk 650.00 Tk 487.50
40
People are viewing this right now
উড়ে যায় নিশিপক্ষী

উড়ে যায় নিশিপক্ষী

Tk 650.00 Tk 487.50

প্রথম প্রকাশিত

কলকাতা বইমেলা ১৯৯৯

পৃষ্ঠার দৈর্ঘ্য

224

ISBN

9789849891055

বইয়ের তথ্য

রাক্ষুসে আঁধার কুঁজো বুড়িকে ডাকে আয়, আয়...। রাত রাত বুড়ি হাওর, মাঠ গোরস্থান ধরে হাঁটে...হাঁটে। হাওরের ঘাটে বেদে বহরের আখড়া। সেই আখড়ায় সাপের মতো ফনকনা, জেদি চন্দ্রানীর বাস। পরপর দুই বিবাহের দুর্বিষহ স্মৃতি বুকে নিয়ে সে সাপের পায়ের ছাপ ধরে ধরে অন্ধকার গহিন জঙ্গলে খোঁজে গর্ত। বিকটাকার এই বিষাক্ত সাপটির টুটি চেপে ধরে নাচাতে নাচাতে বহরের মধ্যে সে ভয় ঢুকিয়ে দেবে। পূর্ণিমার জলের মধ্যে মাঝির ছেলের কুতবুদ্দিনের দেহ ভাসে। মধ্যরাতের জ্যোৎস্নালোকিত হাওরের পথ ধরে এই নয়নপুর গ্রামে এসে উপস্থিত হয় তিরিশ বছরের আগের ওসমান। একটা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তিরিশ বছর আগে যে গ্রাম থেকে শহরে পালিয়ে গিয়েছিল। শহরের জীবনটায় ওসমান ছিল জীবন্মৃতের মতন। বুকের মধ্যে ‘নয়নপুর’ পুষে সে শহরে নিজেকে সারাজীবন তাপ-উত্তাপহীন বোধ করত। এই বোধ নিয়ে সে আকাক্সক্ষী হয়ে শহরের কিচ্ছুকে স্পর্শ করতে পারে নি। গ্রামে এসে উদ্ভ্রান্ত, আবেগ প্লাবিত হয়ে ওঠা সে নয়নপুরের মাটির হাড়-মাংসে নিজের ছায়া খুঁজতে খুঁজতে আবিষ্কার করে- সময় বড় নিষ্ঠুর। নয়নপুর! কোনো বিশেষ অঞ্চলের নাম নয়। এই দেশের অসংখ্য হাওর পার্শ্ববর্তী গ্রামের যে-কোনো একটি গ্রামের নাম নয়নপুর। যে গ্রামকে আচ্ছন্ন করে আছে দোররার শাস্তি, জিন-পরী, ধর্মের কুসংস্কার আর প্রভাবশালী মানুষের নির্মম শোষণ। গ্রামের তেমনই প্রভাবশালী মানুষ মন্নাফ খাঁ নিজের বাড়িতে ওসমানকে জায়গা দিয়েও আতঙ্ক, যন্ত্রণা, সন্দেহের ঘূর্ণিজলে মৃত্যু পাক খায়- ওসমান আসলে কে ? বস্তাভর্তি জিন পোষে যে কুঁজো বুড়ি, সে ওসমানকে বলে, জন্মের সময় তুই যখন মরতি বইছিলি, তুর বুকে তহন আমি পাখির পরান পুঁইতে দিছি। ঝাঁক ঝাঁক শীতপাখি ওসমানের বুকের মধ্যে এসে বসে। গোরস্থান ভেঙে কাফন চুরি করা পিঠভাঙা ফজলু, ইদ্রিস...রামদাস, সুধা বৈষ্ণবী, কুদ্দুস বাউল- ওসমানের আজন্ম সাথিরা কুসংস্কারে, অভাবে, কখনো চেনা, কখনো ভয়ংকর অচেনা হয়ে ওঠে ও ওসমানের অন্ধকার চোখ গেঁথে যায় চন্দ্রালোকিত পাখিদের বহুবর্ণ ডানার ভাঁজে ভাঁজে। দাউদাউ জেগে ওঠে- রক্ত।

Customer Reviews

Be the first to write a review
0%
(0)
0%
(0)
0%
(0)
0%
(0)
0%
(0)