ভাষা আন্দোলন সহজ পাঠ
ঋতু পরিক্রমায় বসন্ত আসে। ফোটে নানা ফুল। রক্তপলাশের দিকে তাকিয়ে আমাদের চেতনায় উকি দেয় একটি দিন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি। সেদিন ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম প্রমুখের রক্তে। তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি। পাকিস্তানি শাসকেরা গুলি চালিয়ে তা স্তব্ধ করতে চেয়েছিল।রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ‘পাকিস্তান’ প্রতিষ্ঠার পরেই। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বাঙালি...
ভাষা আন্দোলন সহজ পাঠ
বইয়ের তথ্য
ঋতু পরিক্রমায় বসন্ত আসে। ফোটে নানা ফুল। রক্তপলাশের দিকে তাকিয়ে আমাদের চেতনায় উকি দেয় একটি দিন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি। সেদিন ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম প্রমুখের রক্তে। তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি। পাকিস্তানি শাসকেরা গুলি চালিয়ে তা স্তব্ধ করতে চেয়েছিল।
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ‘পাকিস্তান’ প্রতিষ্ঠার পরেই। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে তা খোদ গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র কণ্ঠে ঘোষিত হয়। ১৯৫২ সালের ২৭শে জানুয়ারি ঢাকার পল্টনে আয়োজিত জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম লীগ নেতা খাজা নাজিমুদ্দিন পুনরায় উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। এতে বাঙালিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি সেই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আমাদের জাতীয় জীবনে ভাষা আন্দোলনের গভীর তাৎপর্য রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার যে স্ফুরণ সেদিন হয়েছিল তা-ই আন্দোলন সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপান্তরিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত হয় বাঙালির জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ।
আজকের তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশের কাণ্ডারি। তাই তরুণ প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি। এই গ্রন্থে ভাষা আন্দোলনের ইতিবৃত্ত বর্ণনা করা হয়েছে সহজ-সরল ভাষায়। কিশোর-তরুণদের সংগ্রহে চমৎকার এই বইটি অবশ্যই থাকা উচিত।
