ডিপ্রেশন
কবি সিদ্ধার্থ হকের কবিতার অন্যতম শক্তি তাঁর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা—প্রকৃতির নানা উপাদান আর তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়কেও গভীরভাবে মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্যে কবিতার পঙ্ক্তি করে তোলার এক অদ্ভুত সক্ষমতা আছে তাঁর। না হলে এসব পঙ্ক্তি-রচনা—‘মানুষ যখন গাছ ডাউনলোড করে তখন তা বনসাই হয়ে যায়’ কিম্বা ‘গরুর হাম্বা ডাক ব্রহ্মাণ্ডের মতো; আমি ওই হাম্বা ডাক হয়ে যেতে চাই’ বা ‘বাতাসের হাত দিয়ে ঝাড়ু দিতে দেখেছ কি...
ডিপ্রেশন
বইয়ের তথ্য
কবি সিদ্ধার্থ হকের কবিতার অন্যতম শক্তি তাঁর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা—প্রকৃতির নানা উপাদান আর তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়কেও গভীরভাবে মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্যে কবিতার পঙ্ক্তি করে তোলার এক অদ্ভুত সক্ষমতা আছে তাঁর। না হলে এসব পঙ্ক্তি-রচনা—‘মানুষ যখন গাছ ডাউনলোড করে তখন তা বনসাই হয়ে যায়’ কিম্বা ‘গরুর হাম্বা ডাক ব্রহ্মাণ্ডের মতো; আমি ওই হাম্বা ডাক হয়ে যেতে চাই’ বা ‘বাতাসের হাত দিয়ে ঝাড়ু দিতে দেখেছ কি শেষরাতে ঝরাগাছ ?’ বা ‘পৃথিবীর ভিতরের পৃথিবীকে দেখে নিতে পশু না হয়েও পশু হতে হয়’Ñপ্রায় অসম্ভব।
তাঁর কবিতায় ধুলো-পৃথিবী আর অসীম ব্রহ্মাণ্ডের কোনো কিছুই যেন পর্যবেক্ষণ-আওতার বাইরে থেকে যাওয়ার মতো নয়। বাস্তবতার প্রাথমিক স্তর ছাড়িয়ে পরাবাস্তব, অবাস্তব, এমনকি উদ্ভটতার এবসার্ড অর্থে স্তরের পর স্তর বিন্যাসের উন্মোচন আর সেসবের ভেতরে প্রবেশের পর এক অবিরাম যাত্রাকে দেখতে পাওয়া যায়। প্রথাকে সঙ্গে রেখেই ক্রমাগত প্রথাবদ্ধ অভিব্যক্তির বিপ্রতীপ যাত্রাই এই কবির অবিরাম অভিপ্রায়।
