আজগুবি রাত (Ajgubi Raat)
বলেশ্বর নদী দিয়ে পাথরঘাটা খেয়াঘাটে ভেসে এল একটি কাটা হাত। কতদিন ভেসেছে হাতটি, কেউ বলতে পারল না; কিন্তু হাতটিতে কোনো পচন ধরে নি, কোন মাছের খাদ্যও হয় নি হাতটি। একটি মেয়ের হাত, করতলে মেহদীর দাগ, কিন্তু কার, তা কেউ ঠাহর করতে পারল না। হাতটি নিয়ে চাঞ্চল্য শুরু হলো খেয়াঘাটে, তারপর থানায়। পাথরঘাটায় ঘনদুর্যোগের দিন, ঘূর্ণিঝড় সারিকা আঘাত করবে পূর্ণ শক্তি...
আজগুবি রাত (Ajgubi Raat)
বইয়ের তথ্য
বলেশ্বর নদী দিয়ে পাথরঘাটা খেয়াঘাটে ভেসে এল একটি কাটা হাত। কতদিন ভেসেছে হাতটি, কেউ বলতে পারল না; কিন্তু হাতটিতে কোনো পচন ধরে নি, কোন মাছের খাদ্যও হয় নি হাতটি। একটি মেয়ের হাত, করতলে মেহদীর দাগ, কিন্তু কার, তা কেউ ঠাহর করতে পারল না। হাতটি নিয়ে চাঞ্চল্য শুরু হলো খেয়াঘাটে, তারপর থানায়। পাথরঘাটায় ঘনদুর্যোগের দিন, ঘূর্ণিঝড় সারিকা আঘাত করবে পূর্ণ শক্তি নিয়ে : শহরটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বাইরে থেকে। সেই শহরে আটকে পড়েছেন সরকারের দুর্যোগ সচিব, একটি ফিল্মের শুটিং করতে আসা নায়ক-নায়িকা-ভিলেন, এক টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ক্যামেরাম্যান। সবাই থানায় এসে হাজির হন, প্রত্যেকের নিজস্ব কারণে, কিন্তু কাটা হাতটি প্রত্যেকের মনের গোপন জায়গাগুলোতে স্পর্শ করে যায়। সেই স্পর্শে বেরিয়ে পড়ে লুকিয়ে থাকা নানা হাড়গোড়, অপ্রাপ্তির নানা স্মৃতি এবং মানুষগুলো যেন আমূল বদলে যায়। অলৌকিক হাতটি যেন লিখে যায় আজগুবি কিছু আখ্যান, যেগুলোর উৎপত্তি অবচেতনের ছায়ার অঞ্চলে। পাথরঘাটার দূরে একটি গ্রামে কাটা হাতের মূল আখ্যান; সেখানে, সূত্রধর লেখকের মতো, একটি ছেলেও দেখে যায় খণ্ডে খণ্ডে সাজানো তার ইতিহাস। সেই ইতিহাসটি করুণ, যদিও একে অস্বীকার করার কোনো উপায় থাকে না। সে কথাটি সেই বালকটি জানে, লেখক জানেন, এবং শেষ পর্যন্ত পাঠকও।
